প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই। বুধবার (১৩ মে, ২০২৬) সকাল ১০টায় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তার পরিবার সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র:
জন্ম: ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
সংসদীয় রাজনীতি: তিনি চট্টগ্রামের মীরসরাই আসন থেকে মোট ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে ১৯৭০ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মন্ত্রিত্ব: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি দুইবার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সফলভাবে পালন করেছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ: তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন।
বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শেষ দিকে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফসাপোর্টে রাখা হয়েছিল। আজ সকালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর জানাজা ও দাফন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই জানানো হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রয়াণ ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিবর্তনের এক বিশাল অধ্যায়ের সমাপ্তি।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ব্রিটিশ ভারত (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে এ অঞ্চলের মানুষের স্বাধিকার আন্দোলনের যে বীজ বপন করা হয়েছিল, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মতো নেতারা ছিলেন সেই সংগ্রামের উত্তরসূরি। ১৯৪৩ সালে তাঁর জন্মের সময়টি ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ব্রিটিশ শাসনের শেষ মুহূর্তের উত্তাল সময়।
স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তাতে সরাসরি সাড়া দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁর মতো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগেই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ।
ব্যবসায়িক ও আধুনিক উন্নয়ন: ১৯৬৪ সালে কক্সবাজারে হোটেল ব্যবসায় সম্পৃক্ত হয়ে তিনি দেশের পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন। 'পেনিনসুলা চিটাগাং'-এর মতো আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আবাসন ও পর্যটন খাতে আধুনিকতার ছোঁয়া দেন।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই পরাধীন আমল থেকে ২০২৬ সালের এই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ—এই দীর্ঘ যাত্রায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মতো প্রবীণ রাজনীতিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ২০২৬ সালের এই মে মাসে তাঁর চলে যাওয়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করল।
ইতিহাস সাক্ষী, সাহসী ও নীতিনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্ব একটি জাতিকে সংকটে পথ দেখায়। ১৯০০ সালের সেই ঔপনিবেশিক আমল থেকে ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি যে, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন কেবল একজন মন্ত্রী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের নেতা। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও পর্যটন শিল্প এক অভিভাবককে হারালো।
সূত্র: ১. ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যু সংক্রান্ত হাসপাতাল ও পারিবারিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন (১৩ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইতিহাস (১৯৭১-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |